‘হিরোজ অব ৭১’ গেইমের সর্বশেষ সিক্যুয়াল ‘মুক্তিক্যাম্প’

দেশের মুক্তিযুদ্ধকে প্রেক্ষাপট ধরে ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকটি মোবাইল ও পিসি গেইম। শুরুতে বাজার মাত করায় নির্মাতাদের আগ্রহও ছিল বেশ। তবে পরবর্তীতে আর খুব বেশি আগায়নি গেইমগুলাে। নতুন কোনো গেইম তৈরির উদ্যোগও নেই আলােচনায়।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পোর্টব্লিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের গেইম ‘হিরোজ অব ৭১’। গ্রাফিক্সের মান, গেইমেই ধরনে বেশ জনপ্রিয়তা পায় গেইমটি।

তরুণরা মোবাইল গেইম হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের উপর তৈরি ‘হিরোজ অব ৭১’ পছন্দও করে। জনপ্রিয় হলে একে একে এর সিকুয়্যাল মুক্তি পেতে থাকে। প্রথম আসে ‘রিটেলিয়েশন’। সিক্যুয়াল ‘মুক্তিক্যাম্প’ আনা হয় ২০১৮ সালে। গেইমটি গুগলের প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড হয় ১০ লাখের বেশিবার। পরে গেইমটির আর কোনো আপডেট আনা হয়নি।

কারণ হিসেবে তৎকালীন পোর্টব্লিস এবং বর্তমানে গেইম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আলফা পটেটোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাশা মুস্তাকিম বলেন, আমরা হিরোজ অব ৭১ গেইমটি তৈরিতে অনেক সময় দিয়েছিলাম। চেষ্টা ছিল কোনো রকম যেন ইতিহাস বিকৃত না হয়। গেইমটি খুব জনপ্রিয় হলেও ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি। তাই সেটির আর আপডেট আনেনি প্রতিষ্ঠানটি।

পোর্টব্লিস থেকে পরে কোম্পানিটি মাইন্ডফিশারে পরিণত হয়। মাইন্ডফিশার থেকে গেইমটির সর্বশেষ ‘মুক্তিক্যাম্প’ আপডেট আসে। কিন্তু উদ্যোক্তারা একটা পর্যায় পর্যন্ত এগোতে পারলেও অর্থনৈতিক কারণেই গেইমটির আপডেট থেমে গেছে বলে জানান মুস্তাকিম।

এর মধ্যে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে মুস্তাকিম ও তার সঙ্গের উদ্যোক্তারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছেন। আলফা পটেটো থেকে মোস্তাকিম এখন তৈরি করছেন ছোট ছোট গেইম। তিনি বলেন, এখন যেসব গেইম তৈরি করছি আমরা সেগুলো খুব ছোট। আর এগুলোর চাহিদা এখন বেশি। তাই নতুন দিকে ঝুঁকেছেন তিনি।

তবে ‘হিরোজ অব ১৯৭১’ গেইমকে আরও উন্নত করার কথাও জানান মুস্তাকিম। তিনি বলেন, আমাদের এখানের সবেচয়ে বড় অসুবিধা ইনঅ্যাপ পার্সেজের ক্ষেত্রে। যেহেতু এখনো সেই অভ্যাস বা প্লাটফর্ম আমরা তৈরি করতে পারিনি। তবে যেভাবে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হচ্ছে তাতে আমরা চেষ্টা করছি আগামী এক দেড় বছরের মধ্যে এই প্লাটফর্মগুলোকে কাজে লাগাতে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মোবাইল গেইম তৈরি করেছিল ‘ডিজিটালবি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের ‘ওয়ার ৭১ : দ্য ফ্রাস্ট ডিফেন্স’ গেইমটি এখন গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী হানাদার বাহিনীর বর্বরতা শুরুর যে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ সেটি উঠে এসেছে।  প্লে স্টোরে থাকলেও গেইমটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে।

দেশীয় আরেক গেইম তৈরির প্রতিষ্ঠান ওয়েবপার্স ‘গেরিলা ৭১’ নামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ত্রিমাত্রিক মোবাইল গেইম বাজারে এনছিল। শহীদ রুমির সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে `অপারেশন ক্র্যাক প্লাটুন` এবং আরেকটি বীরপ্রতীক মোজাম্মেল হকের অভিযান নিয়ে `অপারেশন টু কিল মোনায়েম খান` তুলে ধরা হয়েছিল। গেইমটি এখন আর প্লে স্টোরে নেই।

দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেসব গেইম তৈরি হয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যক্তি নির্ভর বলে জানান গেইম তৈরির প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদুল হক।

তিনি জানান, প্রথমে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের গেইম তৈরি করলেও নানা কারণেই সেটিকে আর এগিয়ে নিতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি অনেক জনপ্রিয় গেইম তৈরি করলেও অবশ্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গেইম তৈরি করেনি।

তেমনই ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ গেইম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত নাদিম তৈরি করেন গেইমটি। পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অনুদানও পান।  তবে গেইমটি এখন প্লে স্টোরে নেই।

এছাড়াও ‘ম্যাসিভ ওয়ার’, ‘লিবারেশন ৭১’ নামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেইম তৈরি হলেও সেগুলো সফলতার মুখ দেখেনি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেইম কেনো খুব সফল হয়নি জানতে চাইলে আলফা পটেটোর সিইও মাশা মুস্তাকিম বলেন, আমাদের দিক থেকে যে চেষ্টা করিনি এমন নয়। কিন্তু গেইম সফল করতে গেলে যেসব বিষয় থাকা দরকার সেগুলো হয়তো গেইমে নেই।

আর আমাদের বাজার যে একেবারে বড় এমন নয়। তাই শুধু দেশের গেইমার দিয়ে সফলতা আশাও করা যায় না।

প্রযুক্তির পথ ও জয়গানের সব খবর তুলে এনে জীবন সহজ করছে ITSohor। দেশ ও বিদেশের প্রযুক্তির সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে ভিজিট করুনঃ আইটি শহরে

আপনার মতামত, লাইক ও কমেন্টের সঙ্গে থাকুন আমাদের আইটি শহরের ফেসবুক ফ্যান পেজে

86 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com