প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, মানুষের হাতে এখন যে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন সেটি উইন্ডোজ ফোন হতে পারতো।

কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম বিকাশের সেই সুযোগ নিয়ে মাইক্রোসফটরে সঙ্গে ‘রাজনৈতিক’ গেইম খেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিল গেটস।

তিনি বলেছেন, উইন্ডোজ অপারেটিংয়ে মোবাইল ডিভাইস বিকাশের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। কারণ, সেসময় অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় তাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।

গেটস মনে করেন, তাকে যদি সেসময় বিভ্রান্ত করা না হতো তবে আজকের অ্যান্ড্রয়েড হতে পারতো উইন্ডোজ মোবাইল।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ডেলবুক সম্মেলনে এক সাক্ষাতকারে বিল গেটস বলেন, এতে কোনো সংশয় নেই যে, অ্যান্টিট্রাস্ট মামলাটি মাইক্রোসফটের জন্য খুবই খারাপ দিক। এটা ছাড়া আমরা তখন পুরোদমে উইন্ডোজ ফোন আনার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে পারতাম। আর সেটা করতে পারলে আজকে আপনাদের যাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে, সেটা উইন্ডোজ ফোন থাকতে পারতো।

তিনি যুক্তি তুলে ধরেন যে, মাইক্রোসফট সেসময় মটোরোলার একটি ফোনে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম দিতে ব্যর্থ হয়। সেটাও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। মটোরোলার সেই ফোনটি মটো ড্রয়েড ২০০৯ এ আনা হয়। যেটা ছিল মটোরোলার প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন। ওই ফোনটিই যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রয়েডকে চরম মাত্রায় জনপ্রিয় করে তোলে।

গেটস বলেন, আমরা খুবই কাছাকাছি ছিল। কিন্তু আমি এতোটাই বিভ্রান্ত ছিলাম, কি করবো না করবো বুঝে উঠতে পারিনি। মটোরোলার সেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন উন্মোচনের মাত্র তিন মাস পরেই উইন্ডোজ ফোন এনেছি আমরা।  সুতরাং এটাকেই একটা বড় গেইম বলতে পারি। যাতে অ্যান্ড্রয়েড জিতে গেছে।

তিনি বলেন, সেই পিছিয়ে পড়ার ফলেই আমি নিশ্চিত এখানে যারা আছেন তারা উইন্ডোজ মোবাইলের নামও শোনেননি।

মাইক্রোসটের সেই অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার লড়াইগুলো তার দৃষ্টিতে উইন্ডোজ মোবাইলকে এর সম্পূর্ণ বিকাশ সম্ভাবনা থেকে বিরত করেছে।

তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের আইনী বিচারগুলো গ্রাহকদের পক্ষে ভালো কিছু আনে না, এটা প্রয়োজনীয় ছিল না।

অবশ্য এর ভিতরে নিজের কিছুটা সময় বেঁচে গেছে বলেও মনে করেই বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই ধনী। ইউন্ডোজ মোবাইল তখন আনলে আর তার অধীনে সেই কাজ হলে হয়তো তিনি মেলিন্ডা-গেটস ফাউন্ডেশন তৈরি করতে পারতেন না বলে মনে করেন। এখন সেই সুযোগটা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে গেটস অবসরে যান ২০০৮ সালে। যদিও এর আগে ২০০০ সালে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তার একদিন পরেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদে নিয়োগ পান স্টিভ বালমার। তিনিই উত্তরাধিকারসূত্রে উইন্ডোজ মোবাইল ও এক্সপি ট্যাবলেট নিয়ে কাজ করেন।

২০১৩ সালে বালমার ঘোষণা করেন তারা সেসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানে থাকা নকিয়া মোবাইল ইউনিট কিনে নিতে চান। এরপর বালমারের নেতৃত্বেই ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নকিয়া কিনে নেয়।

কিনে নেবার কিছুদিনের মধ্যেই বালমার সিইও পদ থেকে অবসর নিলে বর্তমান সিইও সত্য নাদেলা সে পদে বসে। কিন্তু নকিয়া মোবাইলে উইন্ডোজ দিয়ে নিয়ে আসলেও তা বাজার ধরতে ব্যর্থ হয়।

বিল গেটস মন্তব্য করেন, একটা উদ্দেশ্য নিয়েই অ্যান্টিট্রাস্টের সেই মামলা করা হয়েছিল। এমনকি সেখানে একজন রাজনীতিবিদ জড়িত ছিলেন। যার নাম এলিজাবেথ ওয়ারনে। তিনি চাচ্ছিলেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ুক।

বিল গেটস বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিকে ভেঙে দিয়েও কোনো সমাধান এখানে আসেনি। কারণ, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।

তার মতে, যারা সফটওয়্যারে সেরা হবে, তারাই বাজার দখলে এগিয়ে থাকবে।

প্রযুক্তির পথ ও জয়গানের সব খবর তুলে এনে জীবন সহজ করছে ITSohor। দেশ ও বিদেশের প্রযুক্তির সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে ভিজিট করুনঃ আইটি শহরে

আপনার মতামত, লাইক ও কমেন্টের সঙ্গে থাকুন আমাদের আইটি শহরের ফেসবুক ফ্যান পেজে

31 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com