এলিয়েন গবেষণায় নতুন এক সম্ভাবনা

মানুষের বাইরেও কি সভ্যতার কোনো অস্তিত্ব আছে? আমাদের বাইরেও কি এমন কোনো গোষ্ঠী আছে যারা জ্ঞান বিজ্ঞানে আমাদের মতোই আধুনিক। তারাও কি আমাদের মতোই পড়শির সন্ধানে ব্যস্ত? প্রশ্নটা আজকের না। যুগ যুগ থেকে মানুষ ব্যস্ত মহাবিশ্বে নিজেদের একাকীত্ব ঘোচাবার জন্য। যতই দিন গিয়েছে এলিয়েন নামক শব্দটার অস্তিত্ব প্রমাণে মানুষ আর বেশি পরিশ্রম করে গিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই অজস্র বই, প্রবন্ধ আর চলচ্চিত্রে মানুষ এলিয়েনের উপস্থিতি কল্পনা করে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছে।

কিন্তু আসলেই কি এলিয়েন বলে কিছু আছে? মানুষ ছাড়াও মহাবিশ্বে কি অন্য কারো অস্তিত্ব আছে? ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার সাথে এই ব্যাপারেই কাজ করেছেন গবেষক ক্লদিও গ্রিমাল্ডি। আর নিজের নতুন এক গবেষণা তত্ত্বের মাধ্যমে এলিয়েন শনাক্তকরণের অনেকটাই কাছাকাছি চলে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই গবেষক। তিনি নতুন এক পরিসংখ্যানগত তত্ত্বের প্রবর্তন করেছেন যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা উন্নত কোনো সভ্যতা থেকে আসা যে কোনো সংকেত আলাদা করে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

মজার ব্যাপার হলো, গ্রিমাল্ডির গবেষণার বিষয় কখনোই মহাকাশ সম্পর্কিত ছিল না। তার আগ্রহ ছিল মূলত পদার্থের ঘনীভবন নিয়ে। আমেরিকার EPFL এর ল্যাবরেটরিতে তার গবেষণার মূল বিষয়বস্তু ছিল কার্বন ন্যানটিউবের ইলেকট্রনের আদান প্রদানের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে। এরই মাঝে একদিন তিনি চিন্তা করেন, “কেমন হতো যদি প্রতিটি কার্বন ন্যানোটিউব একটি করে নক্ষত্র এবং প্রতিটি ইলেকট্রনকে অন্য সভ্য জগৎ থেকে আসা সংকেত হিসেবে কল্পনা করা হয়? তাহলে কি আমরা সেই সব সংকেত গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সক্ষম হব?”

তবে এ ধরনের আবিষ্কার এবারই প্রথম নয়। এমন সম্ভাব্যতা নিয়ে বিগত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। অন্য এক বুদ্ধিবৃত্তিক সভ্যতা থেকে আসা সংকেত যাচাইয়ের জন্য সেই ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিত পরিশ্রম করে একের পর এক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের প্রথম থেকেই ধারণা ছিল, বাইরের অন্য কোরনা গ্রহ থেকে উন্নত সভ্যতার পক্ষ থেকে তাড়িতচৌম্বকীয় সংকেতের আগমন ঘটবে এবং পৃথিবীতে রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে সেই সংকেত গ্রহণ করা হবে।

নতুন এক সম্ভাবনা

যদিও রেডিও এস্ট্রোনমির উন্নতির গ্রাফ ক্রমেই উপরে উঠছে, সেই সাথে উন্নত গবেষণার সুযোগও দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে তবু এখন পর্যন্ত এইসব প্রজেক্ট বিজ্ঞানীদের এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণে শক্ত কোনো যুক্তি দেখাতে সক্ষম হয়নি।

১৯৭৭ সালে ইংরেজি “ওয়াও” এর মত যে শব্দটা বিজ্ঞানীরা গ্রহণ করেছিলেন কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন সময়ে যতগুলো ভিন্ন ভিন্ন শব্দ পৃথিবীতে এসেছে কোনটিই এলিয়েনের উপস্থিতি নিশ্চিত করে না।

তবে এও সত্য বিজ্ঞানীরা এখনই হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন। বরং নতুন নতুন বিভিন্ন এক্সোপ্ল্যানেটের আবিষ্কার তাদের এলিয়েনের উপস্থিতি প্রমাণের ক্ষেত্রে আগ্রহ বাড়িয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীরা অন্য এক সভ্য জাতির উপস্থিতি প্রমাণের জন্য পারতপক্ষে নতুন নতুন আবিষ্কারে ব্যস্ত রয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্থাপিত প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা রেডিও টেলিস্কোপের কথা।

সম্প্রতি রাশিয়ান নাগরিক ইউরি মিলনার নতুন এক প্রকল্পের ঘোষণা দেন যা আগের যে কোনো প্রযুক্তির তুলনায় দশগুন বড় আকাশসীমায় সংকেত গ্রহণ করতে সক্ষম এবং সেই সাথে আরও বেশি তরঙ্গের সাহায্যে নিজের কাজ পরিচালিত করতে সক্ষম হয়।

নতুন এই আবিষ্কারে আশাবাদী আবিষ্কারক ক্লদিও গ্রিমাল্ডি নিজেও। এক ম্যাগাজিনে নিজের আবিষ্কারের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এসব প্রযুক্তিগত ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের অনুসন্ধান ক্ষেত্র বড় করার মাধ্যমে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আদতে খুবই কম। এবং আমরা যদি কোনো সংকেত সত্যিই না পাই তার মানে এই না যে মহাবিশ্বে অন্য কোনো প্রাণির অস্তিত্ব নেই বলে আমরা আমাদের সব প্রচেষ্টা থামিয়ে দেবে।’

প্রযুক্তির পথ ও জয়গানের সব খবর তুলে এনে জীবন সহজ করছে itsohor.com। দেশ ও বিদেশের প্রযুক্তির সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে ভিজিট করুনঃ আইটি শহরে । আর জানতে চাই আপনার কথাও। লাইক ও কমেন্টে সঙ্গে থাকুন আইটি শহরের 

25,494 Views

3,215 thoughts on “এলিয়েন গবেষণায় নতুন এক সম্ভাবনা